জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা: বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের উদ্বেগ, গভীর রাতে জাকসুর প্রতিবাদ

জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা: বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের উদ্বেগ, গভীর রাতে জাকসুর প্রতিবাদ

জুলাই আন্দোলনের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও বহিরাগতদের হামলায় জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। এ ঘটনাকে ঘিরে গভীর রাতে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।

শনিবার রাতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়াকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে উদ্বেগ জানানো হয়। ওই বিবৃতির প্রতিবাদে রাত দুইটার দিকে জাকসুর নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে জুলাই আন্দোলনে হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে জাকসুর নেতারা নতুন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে এসব জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনে প্রশাসন সংকটে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস যখন শোকাহত, তখন সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ও চলমান বিচার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বলপ্রয়োগ ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার এমন উদ্যোগ ফ্যাসিবাদী আমলের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথাই মনে করিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করা হয়।

তবে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জানায়, তারা অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের পক্ষে, কিন্তু সেই বিচার অবশ্যই আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হতে হবে।

এদিকে মধ্যরাতে দেওয়া সংবাদ সম্মেলনে জাকসুর নেতারা শিক্ষক ফোরামের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁরা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় হামলায় জড়িত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই উদাসীনতার প্রতিবাদ হিসেবেই প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে শরিফ ওসমান বিন হাদির মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই আশঙ্কা থেকেই দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা পর্যন্ত অভিযুক্তদের হাতে পৌঁছে গেছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে জাকসুর সহসভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, প্রশাসনের কাছে বারবার প্রাতিষ্ঠানিক বিচারের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অবিলম্বে জুলাই আন্দোলনে হামলায় জড়িত শিক্ষকদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ