ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলায় বড় সামরিক অভিযান চালাবেন ?

ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলায় বড় সামরিক অভিযান চালাবেন ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি ক্যারিবীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সর্বশেষ, গতকাল বুধবার, ট্রাম্প প্রশাসন একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে কতদূর যাবেন এবং এর প্রভাব কী হতে পারে।

উদ্দেশ্য ও পটভূমি

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করেছিল। নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপে সত্ত্বেও মাদুরো ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন আগে মাদুরো তৃতীয়বারের মতো ছয় বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। যদিও নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার হুমকি দিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো বড় পদক্ষেপ নেননি। তবে রাজনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় তিনি কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারেন।

ট্রাম্পের নীতি ও কৌশল

প্রাথমিকভাবে ট্রাম্পের দৃষ্টি মাদুরোর প্রতি সরাসরি আক্রমণাত্মক ছিল না। তিনি সাধারণত পররাষ্ট্রনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখেন না, বরং কূটনীতিকে ‘দেওয়া-নেওয়া’র নীতি হিসেবে পরিচালনা করেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাদুরোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে প্রভাবিত করেছেন। কারণ ভেনেজুয়েলা কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ করে, এবং রুবিও বিশ্বাস করেন, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করলে কিউবা দুর্বল হয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “মাদুরোর দিন শেষ।” তিনি সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি এবং মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি অস্বীকার করেননি।

ছোটখাটো সামরিক অভিযান

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্প ছোটখাটো সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। এর মধ্যে দুইটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে:

1. ভেনেজুয়েলার অবৈধ মাদক উৎপাদন কেন্দ্র। যদিও এ ধরনের কেন্দ্র খুব কম আছে, যুক্তরাষ্ট্র মাদকবিরোধী অভিযানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

2. প্রত্যন্ত অঞ্চলের গেরিলা শিবিরে হামলা। তবে এসব শিবিরের যোদ্ধারা হামলার আগেই সরে যেতে পারে।

পূর্ণমাত্রার সামরিক হুমকি

খুব কম মানুষ মনে করেন ট্রাম্প পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালাবেন। ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল এবং দেশটি পুরো নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কঠিন। এছাড়া এমন অভিযান জনমতের সমর্থনও পাবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করতে পারে, যেমন সরকারি বা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদুরো বড় যুদ্ধে যেতে চাইবেন না। কারণ তার সামরিক বাহিনী এক বা দুই দিনের বেশি টিকবে না। ট্রাম্পের হুমকি মূলত মনস্তাত্ত্বিক এবং মাদুরোকে ভাবতে বাধ্য করছে যে তিনি যে কোনো কঠোর পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারেন।

মাদুরোর ভবিষ্যৎ

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তুলনায় মাদুরো এখন তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তবে সামরিক বাহিনীর সমর্থন এখনও রয়েছে। জনসমর্থন ২০-৩০ শতাংশ হলেও দেশ শাসনের জন্য তা যথেষ্ট নয়, বিশেষ করে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না, বরং মাদক পাচার বা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কোনো চুক্তির মাধ্যমে অভিযানকে সফল হিসেবে প্রচার করতে পারেন।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কলম্বিয়া ও ব্রাজিলের বামপন্থী শাসকরা ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করছেন। তবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, আর্জেন্টিনা ও পেরুর মতো ডানপন্থী দেশগুলো ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হলেও অনেক দেশ গোপনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে, কারণ আঞ্চলিক রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদ