মহিলা' থেকে 'নারী' শব্দের পরিবর্তন: নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ

মহিলা' থেকে 'নারী' শব্দের পরিবর্তন: নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও রাজনীতিতে নারীরা পুরুষদের সঙ্গে সমানভাবে এগিয়ে চলছেন। তাদের এই অবদানকে আরও সম্মান জানাতে এবং বর্তমান সমাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ‘মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে, মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর’ এবং ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’-র নাম থেকেও ‘মহিলা’ শব্দটি পরিবর্তন করে ‘নারী’ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ জানিয়েছেন, নাম পরিবর্তনের সঙ্গে ‘বিষয়ক’ শব্দটিও বাদ দেওয়া হবে। নতুন নামগুলো হবে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’, ‘নারী অধিদপ্তর’ এবং ‘জাতীয় নারী সংস্থা’। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ফাইল উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন হবে।

বাংলাদেশ নারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে ‘নারী’ শব্দটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত। এ উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে, সংগঠনের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী নাম, কিন্তু ভবিষ্যতে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এছাড়া, নারীদের সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নের জন্য বাংলাদেশে সংবিধান এবং বিভিন্ন নীতিমালায় ‘নারী’ শব্দটি গুরুত্ব সহকারে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১, এবং অন্যান্য আইন ও বিধিমালায় ‘নারী’ শব্দটি স্পষ্টভাবে ব্যবহৃত।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯, ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে নারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি নারীর ক্ষমতায়নের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশ্বব্যাপী নারীদের গুরুত্ব বাড়ছে, এবং জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের প্রোগ্রাম ও প্রচারণায় ‘নারী’ শব্দটি ব্যবহার করছে। এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে শুধু মন্ত্রণালয়ের আধুনিকীকরণই নয়, বরং এটি নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করবে। সমাজে নারীদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করার জন্য এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদ